ইরানে বিক্ষোভে নিহত ছাড়াল ৫০০: মানবাধিকার সংস্থা
ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে রোববার জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। এর মধ্যে ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
গত দুই সপ্তাহে ইরানে নজিরবিহীন অস্থিরতায় নিহতের এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ। একই সময়ে ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
ইরান সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের কোনও সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তেহরানের মর্গগুলোতে বহু লাশের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কর্তৃপক্ষ এই মৃতদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিহতের এই পরিসংখ্যান নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করতে পারেনি।
গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজারে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে ছোট ছোট বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনের ফলে ক্ষুব্ধ তরুণ জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ টানা রাস্তায় নামতে থাকে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভির সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রতিবাদের আহ্বানের পর রাস্তাগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে একদিনেই ১০০ মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মারমুখী উত্তেজনা দেখা দেয়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনও হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে।
ইরান কর্তৃপক্ষ দেশের এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে ভুল হিসাব-নিকাশের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলছি: ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের পাশাপাশি সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ নিশানা হবে।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রই ইরানে এই অস্থিতিশীলতার হোতা। তারা অশান্তি আরও উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইরানের এই শত্রুরা বিদেশ থেকে সন্ত্রাসীদের ঢুকিয়েছে, যারা মসজিদে আগুন দিয়েছে, ব্যাংকে হামলা চালিয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে।”
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইন্টারনেট ও ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেয়, ফলে কার্যত যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে দেশটি।
এর মধ্যেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজে রাতের আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তেহরানের রাস্তায় মিছিলের একটি ভিডিওতে একজনকে বলতে দেখা গেছে, জনসমুদ্রের ‘শুরু ও শেষ নেই’।
এদিকে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, এই বিক্ষোভ ইরানের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’। তবে পরিস্থিতি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে ‘শক্তিশালী জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে’ বলেও জানান তিনি।

